সমস্ত পাঠকের প্রতি একটি চিঠি
৭ই জানুয়ারি থেকে ‘মৃত স্ত্রী’ প্রকাশিত হওয়ার পর আজ অবধি পুরো দুই সপ্তাহ কেটে গেছে। এই দুই সপ্তাহে, আমি ও আমার পাঠকগণ একসাথে এই গ্রন্থের বিকাশের সাক্ষী হয়েছি। আপনাদের সকলের সহানুভূতি ও উৎসাহের জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
প্রত্যেক পেশারই নিজস্ব ঈশ্বর থাকে। অখ্যাত লেখক হিসেবে, আমার জন্য পাঠকরাই ঈশ্বর।
আমি নবাগত; যদিও আগেও অনেক ভৌতিক উপন্যাস পড়েছি, কিন্তু নিজ হাতে লেখার অভিজ্ঞতা এটাই প্রথম।
‘মৃত স্ত্রী’ আমার প্রাণের পরিশ্রমের ফসল। বহুবার শোধন ও পরিবর্তন করেছি, শ্রেষ্ঠ পাঠানুভূতি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। হয়তো এখনো অনেক ত্রুটি রয়ে গেছে, তবে আমি প্রতিনিয়ত তা সংশোধনের চেষ্টা করব।
আমি অনেক ভৌতিক উপন্যাস পড়েছি। কিন্তু অধিকাংশ চমৎকার গল্প পরে এসে কল্পকাহিনীতে বা অলৌকিক নাটকে রূপান্তরিত হয়ে যায়। নিছক ব্যক্তিগত মতামত, আমার মনে হয় ভৌতিক মানেই ভৌতিক—এটা ভূতের গল্প নয়।
আসলে, ‘ভৌতিক’ শব্দের অর্থ প্রত্যেকের মনে আলাদা। আমি নিজেও কিশোর বয়সে একবার ভূতের আবেশ প্রত্যক্ষ করেছিলাম, তখন ভীষণ ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম।
তবে সত্যিই কি পৃথিবীতে ভূত আছে?
হয়তো আছে, হয়তো নেই। আমি বিশ্বাস করি, অধিকাংশ সময় ভূত মানুষের মনেই জন্ম নেয়। মানুষের মনে সন্দেহ, অজানা আশঙ্কা থেকেই সেই ভূতের সৃষ্টি।
যদি সৎভাবে বাঁচা যায়, অন্তরে কোনো অপরাধবোধ না থাকে, তবে ভূতের ভয়ই বা কেন থাকবে?
আমার কথা বলি—আমি একজন সাধারণ কর্মজীবী। দিনভর অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকি, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে সাদামাটা খেয়ে লেখার কাজে বসি। তাই মাঝে মাঝে রাত্রে আপডেট হয়।
আমি জানি, বইটি প্রকাশিত হলে কিছু পাঠক হয়তো চলে যাবেন। হয়তো অর্থের অভাবে, হয়তো আমার লেখার আকর্ষণ না থাকায়। তবে যেভাবেই হোক, কেউ যদি শুধু একটি অধ্যায়ও পড়েন, আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
‘মৃত স্ত্রী’-র বিনামূল্যে অধ্যায়ে মূলত এক পক্ষের ছোট ড্রাগনকে ক্ষতি করার গল্প লেখা হয়েছে। সামনে প্লটের বিস্তারে গল্প আরও উত্তেজনাপূর্ণ হবে, আমি আত্মবিশ্বাসী যে এই বইটি ভালোভাবে লিখতে পারব।
এখানে পাঠকদের কাছে একটাই অনুরোধ—আপনাদের সমর্থনই আমার অনুপ্রেরণা। একটি সুপারিশ, একটি স্বর্ণের ভোট, কিংবা একটি মন্তব্য—আমার জন্য তা অমূল্য উৎসাহ।
এই পর্যন্তই বলি; আপনারা পাশে থাকুন, আমি নিশ্চিত আপনাদের নিরাশ করব না।
শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা।